জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি।।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ার কার থেকে প্রায় ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
রেলওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। এর আগেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক পাচারের তথ্য পেয়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল ভৈরব রেলওয়ে থানার একটি বিশেষ দল। ট্রেনটি স্টেশনে থামার পরপরই পুলিশ সদস্যরা ট্রেনের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি শুরু করেন।
ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানান, গোপন সূত্রে তারা জানতে পারেন মাদক কারবারিরা উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন ব্যবহার করে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি বড় ধরনের গাঁজার চালান পাচারের চেষ্টা করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ধরনের সময়ক্ষেপণ না করে ট্রেনের পাওয়ার কারে বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তল্লাশি চলাকালে পাওয়ার কারের ভেতরে রাখা তিনটি প্লাস্টিকের ব্যাগ পুলিশ সদস্যদের নজরে আসে। ব্যাগগুলো খুলে দেখা যায়, নীল রঙের পলিথিনে মোড়ানো বিপুল পরিমাণ গাঁজা ভেতরে রাখা আছে। পরবর্তীতে ওজন করে দেখা যায়, উদ্ধারকৃত গাঁজার পরিমাণ মোট ২০ কেজি। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করে ভৈরব রেলওয়ে থানায় নেওয়া হয়।
তবে অভিযান চলাকালে গাঁজা পাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত কোনো ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ধারণা করছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা আগেই কৌশলে সরে পড়েছে অথবা ট্রেন থামার আগেই পাওয়ার কারে গাঁজা রেখে পালিয়ে গেছে।
ওসি সাঈদ আহমেদ আরও বলেন, “উদ্ধারকৃত গাঁজা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আমরা কাজ করছি। ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাশাপাশি ট্রেনটির যাত্রাপথ, স্টপেজ ও সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।”
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তঃনগর ট্রেন ব্যবহার করে মাদক পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পাওয়ার কার, লাগেজ ভ্যান ও কম ব্যবহৃত বগিগুলো মাদক পাচারকারীদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কারণে রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ট্রেনভিত্তিক নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ কেন্দ্র। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী একাধিক আন্তঃনগর ট্রেন এই স্টেশন ব্যবহার করায় মাদক পাচারকারীরা এটিকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রেলওয়ে পুলিশের সক্রিয়তায় একের পর এক মাদক উদ্ধার হওয়ায় পাচারকারীরা চাপের মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল রেলওয়ে পুলিশের তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে রেলপথে মাদক পাচার অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ভৈরব রেলওয়ে থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত গাঁজা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে জব্দ দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি গাঁজা পাচার চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশ আরও জানায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে ট্রেন তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে।
Post a Comment