ভৈরবে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের অভিযানে ৫ সদস্যের ডাকাত দল গ্রেপ্তার

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি।।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের বিশেষ অভিযানে পাঁচজন সক্রিয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, টর্চলাইট ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চুরি করা মোবাইল ফোন। গ্রেপ্তারকৃতদের মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে ভৈরব পৌর শহরের মুসলিমের মোড় সংলগ্ন কমলপুর মধ্যপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই এলাকার চিহ্নিত ডাকাত ফয়সাল মিয়ার বাড়ির সামনে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে পাঁচজনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—পৌর শহরের কমলপুর নিউটাউন এলাকার মো. স্বাধীন মিয়ার ছেলে গরীবুল্লাহ (২৮), ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া (মনু ডাক্তারের বাড়ি) এলাকার মৃত আবুল মিয়ার ছেলে মো. জনি মিয়া (২৮), কমলপুর নিউটাউন ট্রমা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার নূর আমিন (১৯), উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে মুন্না মিয়া (২১) এবং উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের এমদাদুল হকের ছেলে আরমান মিয়া নোমান (২২)।
ভৈরব থানা পুলিশ জানায়, ওই রাতে ভৈরব বাসস্ট্যান্ডের দুর্জয় মোড় এলাকায় নিয়মিত টহল ও ডিউটি পালন করছিলেন ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই-নি.) মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় তিনি গোপন সূত্রে খবর পান, মুসলিমের মোড় সংলগ্ন কমলপুর মধ্যপাড়া এলাকায় একদল সংঘবদ্ধ ডাকাত দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ১১ থেকে ১২ জনের একটি ডাকাত দল ছত্রভঙ্গ হয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজন ডাকাতকে আটক করতে সক্ষম হয়। বাকিরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারের সময় আটককৃতদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্যমতে, গরীবুল্লাহর কাছ থেকে একটি স্টিলের তৈরি ধারালো রামদা, জনি মিয়ার কাছ থেকে একটি লোহার তৈরি ধারালো রামদা, মুন্না মিয়ার কাছ থেকে একটি স্টিলের ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নূর আমিনের কাছে থাকা একটি সাদা রঙের শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১০টি মোবাইল ফোন এবং কালো রঙের বিভিন্ন সাইজের চারটি চার্জারযুক্ত টর্চলাইট জব্দ করা হয়। এসব মোবাইল ফোন ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভৈরব পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে ছিল। পুলিশের এই অভিযানে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যরা গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তারা আশাবাদী।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ডাকাত দলের পাঁচজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও চুরি করা মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ভৈরব থানাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।”
ওসি আতাউর রহমান আকন্দ জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে ভৈরব থানা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী একাধিক থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই তাদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post