জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি।।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে দীর্ঘ সময় ধরে চলা রহস্যজনক নাটকীয়তার পর অবশেষে তিন বস্তা ভারতীয় তৈরি প্যান্ট ও ব্লেজারের থান কাপড় জব্দ করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পড়ে থাকা এসব বস্তা ঘিরে যাত্রী, রেলকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও নানা প্রশ্নের জন্ম নেয়।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেনটি বুধবার বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। এ সময় স্টেশনের লাগেজভ্যান থেকে শ্রমিকদের মাধ্যমে তিনটি বড় বস্তা নামানো হয়। বস্তাগুলো নামানোর পর থেকেই সাদা পোশাকে থাকা রেলওয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্য নীরবে সেগুলোর ওপর নজরদারি শুরু করেন। তবে রহস্যজনকভাবে বস্তাগুলো নামানোর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো দাবিদার সেখানে উপস্থিত হননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বস্তাগুলো প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ওভারব্রিজের সামনে পড়ে ছিল। পুলিশ উপস্থিত থাকলেও সেগুলো থানায় নেওয়া হচ্ছিল না। এতে করে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়। বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে এলে ঘটনাটি নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়ে।
পরবর্তীতে রাত আনুমানিক নয়টার দিকে রেলওয়ে পুলিশ বস্তাগুলো খুলে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তাগুলোর ভেতরে রয়েছে ভারতীয় তৈরি প্যান্ট ও ব্লেজারের থান কাপড়। এরপর পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বস্তাগুলো জব্দ করে ভৈরব রেলওয়ে থানায় নিয়ে যায়।
থানায় নিয়ে যাওয়ার পর কাপড়গুলো গণনা করে দেখা যায়, তিন বস্তায় মোট ৯০টি বান্ডিল রয়েছে। এসব বান্ডিলে থাকা কাপড় মূলত ভারতীয় প্যান্ট ও ব্লেজার তৈরির জন্য ব্যবহৃত উন্নতমানের থান কাপড় বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব কাপড় ট্রেনযোগে দেশে আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মালামালের মালিকানা দাবি করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, কাপড়গুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় সেগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সাঈদ আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ঢাকাগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় তিন বস্তা ভারতীয় কাপড় উদ্ধার করি। পরে থানায় এনে গণনা করে দেখা যায়, এতে ৯০টি প্যাকেট প্যান্ট ও ব্লেজারের কাপড় রয়েছে।” তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোনো দাবিদার পাওয়া যায়নি।
বস্তাগুলো থানায় নিতে বিলম্ব হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করার জন্য পুলিশ সদস্যরা ইউনিফর্ম ও সিভিল পোশাকে স্টেশনে নজরদারি করছিলেন। কিন্তু কেউ মালিকানা দাবি না করায় শেষ পর্যন্ত আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাপড়গুলো জব্দ করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, রেলপথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য পাচারের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা সুযোগ বুঝে স্টেশনগুলোকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত কাপড়গুলোর উৎস, প্রেরক ও সম্ভাব্য গ্রহীতার পরিচয় শনাক্তে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে কোনো পাচারচক্র জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
Post a Comment