ভৈরবে রিসাইক্লিং খালি বোতলের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি ॥
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় রিসাইক্লিং খালি বোতল সংরক্ষণের একটি গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিস ও নৌ ফায়ার সার্ভিসের মোট তিনটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ভৈরব পৌরসভার নাটালের মোড় এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গোডাউনটিতে বিপুল পরিমাণ খালি প্লাস্টিক ও কাচের রিসাইক্লিং বোতল মজুদ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে নাটালের মোড় এলাকায় অবস্থিত আলম মিয়ার ভাঙারির গোডাউন থেকে হঠাৎ কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। প্রথমে এলাকাবাসী বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ধোঁয়ার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং গোডাউন থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা দেয়।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে স্থানীয় লোকজন নিজ উদ্যোগে পানি ও বালতি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে গোডাউনে থাকা দাহ্য প্লাস্টিক বোতল ও অন্যান্য সামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে ভৈরব বাজার ফায়ার স্টেশন ও নৌ ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে দুটি পানিবাহী গাড়ি ব্যবহার করা হয়। তবে গোডাউনের আশপাশে পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় পানি সংগ্রহ করতে দূরবর্তী স্থান থেকে বারবার পানি আনতে হয়। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় বেশি লেগে যায় এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বেগ পেতে হয়।
দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ততক্ষণে গোডাউনে সংরক্ষিত বেশ কিছু রিসাইক্লিং বোতলের বস্তা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। যদিও অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে মালামালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভৈরব বাজার ফায়ার স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার এ কে আমিন অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোডাউনের আশপাশে পানির কোনো স্থায়ী উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় বেশি লেগেছে।
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গোডাউনে মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ খালি বোতল ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রী পুড়ে গেছে।
আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে সিগারেটের আগুন বা মশা নিধনের কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, ভাঙারি ও রিসাইক্লিং সামগ্রীর গোডাউনগুলো সাধারণত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এ ধরনের আগুন বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, গোডাউনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করলেও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মালিক পক্ষ ও ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post