আবু ইউসুফ সোহাগ
বিশেষ প্রতিনিধি
আজ, ৫ নভেম্বর ২০২৫, বুধবার কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক বিশেষ ধর্মীয় আয়োজন। বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি জাফরাবাদ ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ ওয়াজ মাহফিলের প্রধান বয়ান প্রদান করবেন দেশবরেণ্য আলেম, চরমোনাই পীর ও নায়েবে আমিরুল মুজাহিদিন শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। দীর্ঘদিন পর এই অঞ্চলে চরমোনাই পীরের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয়েছে এই মাহফিল। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বিকেল থেকে অনুষ্ঠানস্থলে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করবে, আর মূল বয়ান শুরু হবে মাগরিব নামাজের পরপরই।
বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতি নিশ্চিত
ওয়াজ মাহফিলকে ঘিরে শুধু সাধারণ মুসল্লিদের ভিড়ই হবে না, বরং উপস্থিত থাকবেন নানাবিধ আলেম-ওলামা, জনপ্রতিনিধি ও সম্মানিত সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পীর সাহেব চরমোনাই মনোনীত কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জেলা দ্বীন কায়েম সংগঠনের সভাপতি প্রভাষক হাফেজ মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার।
এ ছাড়া সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি কিশোরগঞ্জ জেলার শীর্ষ আলেম, ছদর মাওলানা শফিকুল ইসলাম ফারুকী। বক্তব্য রাখবেন আরও অনেকে—যাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ আলেমগণ, যেমন হাফেজ মাওলানা মোবারক হোসেন বুলবুল, মাওলানা শেখ আহমাদ খায়রুল্লাহ হুসাইনী প্রমুখ।
ক্ষেত্রে প্রস্তুতি পরিদর্শন, উৎসবমুখর পরিবেশ
গতকাল, ৪ নভেম্বর বিকেলে মাহফিলের প্যান্ডেলসহ সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন প্রভাষক হাফেজ মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার। তিনি সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, “আগামীকালের এই বিশাল ওয়াজ মাহফিল শুধু একটি সাধারণ ধর্মীয় সমাবেশ নয়। এটি আমাদের আত্মার খোরাক যোগাবে, হৃদয়ে নবজাগরণ ঘটাবে, ইনশাআল্লাহ। তাই আমি করিমগঞ্জবাসীসহ আশেপাশের সকল এলাকা থেকে মানুষকে আহ্বান জানাই—দলে দলে যোগ দিন, জিকির-আসকারের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করুন।"
তার এই আহ্বান ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা থেকে স্পষ্ট হচ্ছে—আজকের ওয়াজ মাহফিলে ব্যাপক জনসমাগম হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মাহফিলের বিশেষ দিক: শুধু দাওয়াত নয়, পরিবর্তনের বার্তাও
একাধিক সূত্র জানায়, শুধুমাত্র ওয়াজ-নসিহত নয়, এই মাহফিলের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সমাজে ইসলামি নৈতিকতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, তরুণদের মধ্যে শুদ্ধ চেতনার প্রচার এবং নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে দায়িত্বশীল সমাজ গঠন। চরমোনাই পীর ফয়জুল করিমের বয়ান সবসময়ই বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য এবং সরল ভাষায় মানুষের অন্তরে প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
সব ধর্মপ্রাণ মুসলিমকে এই মাহফিলে অংশগ্রহণের জন্য খোলা আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় মসজিদ-মাদরাসা, ইসলামী সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের সহযোগিতায় পুরো আয়োজনকে ঘিরে প্রস্তুতি চলছে বেশ জোরেশোরে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা
মাহফিল আয়োজন কমিটি জানিয়েছে, তারা বড় জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে যথাযথ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্যান্ডেলে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষের জন্য। এছাড়া আলাদা করে নারীদের জন্য নির্ধারিত আসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন এবং থানা পুলিশকে অবগত করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরাও কাজ করছে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং মসৃণ আয়োজন নিশ্চিত করতে।
করিমগঞ্জবাসীর আগ্রহ ও প্রত্যাশা
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরমোনাই পীরের আগমন তাদের কাছে সম্মানের এবং আনন্দের বিষয়। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর মাধ্যমে ধর্মীয় চেতনার বুনিয়াদ আরও মজবুত হবে এলাকায়।
জাফরাবাদ এলাকার বাসিন্দা আলহাজ্ব মোফাজ্জল হোসেন জানালেন, “আমার বয়স ৬০ পেরিয়েছে। ছোটবেলায় একবার চরমোনাই পীরকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। আজ আরেকবার তাঁকে সামনাসামনি দেখতে পারবো—এটা আমাদের ভাগ্য।"
করিমগঞ্জ উপজেলা এখন পরিণত হয়েছে এক ধরনের ধর্মীয় উৎসবমুখর পরিবেশে। এলাকার বড় অংশের মানুষ এখন এই মাহফিলকে ঘিরে ব্যস্ত, প্রস্তুত এবং প্রত্যাশায় উদগ্রীব।
Post a Comment