ভৈরবে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে আহত ৪, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

জয়নাল আবেদীন রিটন
ভৈরব প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আজ ভোরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ নভেম্বর ২০২৫) ভোর ৪টার দিকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের ভৈরব উপজেলা সদরসংলগ্ন এলাকায় একটি ট্রাক ও মাছবোঝাই পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে মাছবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান ভৈরবের দিকে আসছিল। একই সময়ে কিশোরগঞ্জের দিক থেকে আসা একটি এঙ্গেলবোঝাই ট্রাক ভৈরব উপজেলার সামনে পৌঁছালে দ্রুতগামী পিকআপটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে। এতে পিকআপের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা চারজন আহত হন।

খবর পেয়ে ভৈরব ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত দুজন—পিকআপ চালক সাজ্জাদ হোসেন (২৭) এবং হেলপার রনি (২৫)—কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।

আহত সাজ্জাদ ও রনির বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলায়। তারা প্রতিদিন মাছবাহী পিকআপ নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে ভৈরব মাছবাজারে মাছ সরবরাহ করতেন। দুর্ঘটনার সময় তারা ভোরে মাছ নিয়ে ভৈরবের দিকে আসছিলেন।

দুর্ঘটনায় ট্রাকের চালক ও হেলপারও সামান্য আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল জানায়, পিকআপের সামনের অংশ ট্রাকের নিচে ঢুকে গিয়েছিল, ফলে চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করতে কাটার মেশিন ব্যবহার করতে হয়। প্রায় আধাঘণ্টার চেষ্টায় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

দুর্ঘটনার পর ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি গাড়ি রাস্তার পাশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ভৈরব হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাহাবুর রহমান বলেন,

> “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করি। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি দুটি থানায় আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে পিকআপটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল। ট্রাকের পেছনে ধাক্কা মারার আগে চালক হয়তো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। দ্রুতগতি ও অসতর্কতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ভারী যানবাহনগুলো অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তারা সড়কটিতে গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও পুলিশের টহল বাড়ানোর দাবি জানান।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন,

> “দুজনের মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত পাওয়া গেছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।”



এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের শব্দে আশপাশের মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নেন।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও পিকআপ থানায় জব্দ করে রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনার কারণে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। পরে সকাল ৭টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো—সড়কে এক মুহূর্তের অসতর্কতা কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সঠিক প্রশিক্ষণ ও গতিনিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post