কেন্দ্রীয় ফারিয়া সভাপতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদে ভৈরবে মানববন্ধন

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি

কেন্দ্রীয় ফারিয়ার সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় আলশেফা হাসপাতালের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে স্থানীয় ফারিয়া নেতাকর্মী, ওষুধ কোম্পানির বিপণন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেন।

ভৈরব মডেল ফারিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিবাদ কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী নেতা এইচ. এম. লোকমান হুদা। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “একজন দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করে যে ধরনের হুমকি ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে তা শুধু ব্যক্তি হাবিবুর রহমান হাবিবকে নয়; বরং দেশের ফারিয়া অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।”

মানববন্ধনে সংগঠনের সদস্য সচিব মো. সুমন মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আসাদুজ্জামান, মো. আবুবকর ছিদ্দিক, সদস্য ওমর ফারুক, শামীম আহমেদ, স্বপন আহমেদসহ একাধিক বক্তা বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন্দ্রীয় সভাপতিকে নিয়ে ফেসবুকে নানা ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বক্তাদের দাবি—এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অতিদ্রুত সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

বক্তারা বলেন, “একজন কেন্দ্রীয় নেতার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার জন্য অপশক্তি সক্রিয় হয়েছে। যারাই এই ষড়যন্ত্র করছে, তারা দেশের ফারিয়া অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করতে চায়।” তারা আরও জানান, একজন জনপ্রিয় ও সৎ সংগঠক হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। ফলে ব্যক্তিগত স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পক্ষ তাকে টার্গেট করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে বলে দাবি করেন নেতারা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে হুমকি মানে পুরো সংগঠনের বিরুদ্ধে হুমকি। বক্তারা বলেন, “এই হুমকি ও মিথ্যা প্রচারণা কেবল ব্যক্তি আক্রমণ নয়—এটি আমাদের প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা। আমরা এর কঠোর জবাব চাই এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

আয়োজকরা জানান, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের আরও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটছে—যেখানে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এ বিষয়ে বিশেষ নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

মানববন্ধনে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, “ফারিয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরাও আতঙ্কে কাজ করতে পারবে না।” তারা অবিলম্বে হুমকিদাতাদের গ্রেফতার ও অপপ্রচারের উৎস চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশাসনের নিকট লিখিত দাবি পেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, যদি সময়মতো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post