ভৈরবে খন্দকার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গুণিজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় খন্দকার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা জানাতে একটি বর্ণাঢ্য গুণিজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর খন্দকার মোড় এলাকার খন্দকার বাড়ির মাঠে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল আলম। খন্দকার ফাউন্ডেশনের আহবায়ক ও উলামা দল ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান খন্দকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী মো. শাহিন, পৌর বিএনপির নির্বাহী সদস্য আশরাফ উদ্দিন আহমেদ এবং শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহ আলম।

“নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্য কাজ করাই প্রকৃত মানুষত্ব”— শরিফুল আলম

আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে প্রধান অতিথি মো. শরিফুল আলম বলেন,
“একজন মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তখনই, যখন তিনি নিজের স্বার্থের বাইরে গিয়ে সমাজের পাশে দাঁড়ান। মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রতিটি পদক্ষেপই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকে। আমি রাজনীতিতে এসেছি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, মানুষের জন্য কিছু করতে।”

তিনি আরও বলেন, গত সরকারের আমলে ভৈরব ও তার আশপাশ এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্ভীকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষা, ক্রীড়া, সড়ক অবকাঠামোসহ জনগণের জীবনের মানোন্নয়নে তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

প্রয়াত দুই নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া

অনুষ্ঠানে প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া এবং ভৈরব উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের স্মরণে দোয়ার আয়োজন করা হয়। তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের কথা স্মরণ করে বক্তারা বলেন, এসব ব্যক্তিত্ব সমাজে স্থায়ী দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।

অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশিষ্টজনদের সম্মাননা স্মারক প্রদান

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতাসহ মোট ১৫ জন গুণিজনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন—

শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের জমিদাতা আমিনুল ইসলাম চৌধুরী ও হাজী সিরাজ মিয়া

দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আ. বারী খন্দকার (রহ.)

আফছর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম গিয়াস উদ্দিন

জামালপুর (টেকনিক্যাল) উচ্চ বিদ্যালয় ও ছনছাড়া এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া

টান কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফাঁড়ি রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বিভিন্ন দাতা পরিবার

খাদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা, জমিয়াতুল মদিনা ফরিদা সাত্তার দরসে নেজামী মাদ্রাসা এবং খন্দকার এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতারা


সম্মাননা স্মারক গ্রহণের সময় উপস্থিত জনতা করতালির মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মানবিক সেবায় খন্দকার ফাউন্ডেশনের ধারাবাহিকতা

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, খন্দকার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানবিক সেবামূলক নানা কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছে। অসহায় মানুষের ঘর নির্মাণ, নূন্যতম সম্পদহীন মেয়েদের বিয়েতে সহায়তা, যাকাত বিতরণ, বাৎসরিক খাবার সহায়তা, ঈদ উপহার এবং রমজানে ইফতার প্যাকেট বিতরণসহ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, নতুন বছরে অতিদরিদ্র তিনটি পরিবারকে ঘর ও ছোট ব্যবসার জন্য দোকানঘর নির্মাণ করে সম্পূর্ণভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা

পুরো অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন খন্দকার ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব মো. খন্দকার রফিকুল আমীন, শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল বাকের ঝলক এবং উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার নেয়ামত উল্লাহ রনি।

Post a Comment

Previous Post Next Post