জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি
ঢাকা-সিলেট রেলপথে চলন্ত ট্রেনে টিকিট চেকিংকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্যকে মারধর এবং টিটিইর সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় দুই যাত্রীকে গ্রেফতার করেছে ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ ভৈরব স্টেশনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটক করে। পরে বুধবার (২৫ নভেম্বর) সকালে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতাররা হলেন—হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার রসুলপুর গ্রামের আব্দুল করিম মিয়ার ছেলে বোরহান (২৭) এবং মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণবাগ গ্রামের আহাদ মিয়ার ছেলে নাঈম হোসেন মুরাদ (২১)।
কি ঘটেছিল চলন্ত ট্রেনে
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঢাকা থেকে সিলেটগামী ট্রেনটি যাত্রা শুরু করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিটিই ও রেলওয়ে পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত টিকিট চেকিং করছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদীর মেথিকান্দা স্টেশন অতিক্রম করার সময় টিটিই যাত্রী নাঈম হোসেন মুরাদের কাছে টিকিট দেখতে চান। তবে সে কোনো বৈধ টিকিট দেখাতে পারেনি।
এ নিয়ে টিটিই যখন তাকে জরিমানা কিংবা টিকিট কাটার কথা বলেন, তখন নাঈম উত্তেজিত হয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। তার সঙ্গে যোগ দেয় একই যাত্রীর বন্ধু বোরহানসহ আরও কয়েকজন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সেখানে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্য কনস্টেবল মামুন মিয়া বিষয়টি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
কিন্তু উল্টো পুলিশ সদস্যদের দিকেই চড়াও হয় যাত্রীর দল। এ সময় বোরহান ও নাঈমসহ কয়েকজন যুবক টিটিইর সঙ্গে রূঢ় আচরণ করে এবং কনস্টেবল মামুন মিয়াকে মারধর করে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এ হামলায় টিটিইও আহত হন।
গ্রেফতার প্রক্রিয়া
ঘটনার পর ট্রেনটি ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে টিটিই ও পুলিশ সদস্যরা রেলওয়ে থানা পুলিশের সহায়তায় দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত করে আটক করেন। বাকি সহযাত্রীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আটক দুই যাত্রীকে থানায় নেওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার বিষয়ে অস্পষ্ট বক্তব্য দেয়।
অপরদিকে আহত পুলিশ সদস্য মামুন মিয়াকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় ফিরে মামলার বাদী হিসেবে অভিযোগ দায়ের করেন।
আহত পুলিশ সদস্যের বক্তব্য
পুলিশ কনস্টেবল মামুন মিয়া জানান,
“ঢাকা থেকে অন্তত ছয়-সাতজন যুবক টিকিট ছাড়াই ট্রেনে উঠেছিল। টিটিই তাদের কাছে টিকিট দেখতে চাইলে তারা শুরু থেকেই উগ্র আচরণ করতে থাকে। পরে টিটিইকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। পরে ভৈরবে পৌঁছে আমরা তাদের দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হই।”
তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেছেন।
ওসির অবস্থান: তদন্ত চলছে
রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন,
“চলন্ত ট্রেনে পুলিশের ওপর হামলা একটি গুরুতর অপরাধ। টিটিই ও পুলিশ সদস্যের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কুলাউড়া রেলওয়ে থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মামুন মিয়ার দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। পুরো ঘটনার সিসিটিভি ও যাত্রীদের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেলপথে নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ
একটি সাধারণ টিকিট চেকিংকে কেন্দ্র করে টিটিই এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতা প্রকাশ করেছেন। রেলওয়ে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও এই ঘটনার পর নিরাপত্তা বাড়াতে নির্দেশনা জারি করেছে বলে জানা গেছে।
Post a Comment