ভৈরবে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ জাহানারা বেগম (৫০) নামে এক নারী মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ভৈরব কার্যালয়ের সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। জাহানারা বেগম কুমিল্লা জেলার ক্যান্টনমেন্ট থানার খেতাসার এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান

ডিএনসির ভৈরব কার্যালয়ের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল যে কুমিল্লা থেকে ভৈরব হয়ে বৃহত্তর কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে একটি চক্র ইয়াবা পাচার করছে। মঙ্গলবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকেন। এ সময় সন্দেহভাজন একটি লেগুনায় তল্লাশি চালিয়ে জাহানারা বেগমকে আটক করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, আটক নারীর আচরণ এবং কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ, পোশাক ও লেগুনার ভেতরের অংশ তল্লাশি করে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসব ইয়াবা সে নিজ হেফাজতে বহন করছিল বলে নিশ্চিত হয় ডিএনসি।

যেভাবে ধরা পড়ল নারী মাদক কারবারি

অভিযানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আটক জাহানারা ইয়াবার বড় চালান সরবরাহকারী একটি সক্রিয় চক্রের সদস্য। সে কুমিল্লা সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন রুটে ইয়াবা পরিবহন করত। এর আগেও তাকে কয়েকবার সন্দেহভাজন হিসেবে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল, কিন্তু সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে মঙ্গলবারের অভিযানে বড় চালানসহ ধরা পড়ে।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষায়, নারী কারবারিদের ব্যবহার করা হচ্ছে নজরদারি এড়ানোর কৌশল হিসেবে। কারণ নারী যাত্রীদের সাধারণত কম তল্লাশি করা হয়। তাই মাদকচক্রগুলো এখন নারী ও কিশোর-কিশোরীদের ব্যবহার করছে মাদক পরিবহনে।

ডিএনসির অফিসারের বক্তব্য

পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বলেন,
“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা নিশ্চিত হই যে ইয়াবার একটি বড় চালান ভৈরব হয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছে। সকালেই আমরা এলাকায় অবস্থান নিই। পরে একটি লেগুনা থেকে জাহানারা বেগমকে আটক করি এবং তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করি। এটি বেশ বড় একটি চালান। দীর্ঘদিন ধরে সে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছি।”

তিনি আরও বলেন, আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান চলমান রয়েছে।

মামলা ও আইনগত প্রক্রিয়া

অভিযান শেষে পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে জাহানারা বেগমকে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভৈরব থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। বুধবার সকালে তাকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

ভৈরব এলাকায় মাদক বিস্তার উদ্বেগজনক

স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ভৈরব একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ-সড়ক সংযোগস্থল হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের জন্য বিভিন্ন চক্র এ রুটকে ব্যবহার করে আসছে। বিশেষ করে কক্সবাজার থেকে আসা ইয়াবা ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে আনীত বিভিন্ন মাদক সহজেই এখানে হস্তান্তর করা যায়।

ডিএনসি বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভৈরব, কুলিয়ারচর এবং বাজিতপুর এলাকাজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন মাত্রায় মাদক উদ্ধার হচ্ছে। তবে নারী কারবারির যুক্ত হওয়া মাদক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা

স্থানীয়রা জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আসলেও পুরোপুরি দমন সম্ভব হয়নি। তারা চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান, যেন মাদক ব্যবসার শিকড় উপড়ে ফেলা যায়।

Post a Comment

Previous Post Next Post