ভৈরবে ১৮০০ পিস ইয়াবাসহ দুই নারী মাদক কারবারি আটক

জয়নাল আবেদীন রিটন
ভৈরব প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৮০০ পিস ইয়াবাসহ দুই নারী মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। শনিবার (৮ নভেম্বর ২০২৫) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভৈরব থানাধীন আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই নারী হলেন—ভৈরবপুর মধ্যপাড়া এলাকার গোলাম হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম (৫২) এবং একই এলাকার ফাইজুল ইসলামের স্ত্রী আশা বেগম (৩৬)। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

অভিযান পরিচালনা করেন কিশোরগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর। তিনি জানান,

> “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সকালে ভৈরবের আকবরনগর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সন্দেহভাজন দুই নারীকে আটক করে তল্লাশি করা হলে তাদের কাছ থেকে এক হাজার আটশ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ইয়াবাগুলো তারা নিজ হেফাজতে রেখে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিল।”



পরিদর্শক আরও বলেন, উদ্ধার করা ইয়াবাগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছেন, তারা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতেন।

অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি ভৈরব শহর ও আশপাশের এলাকায় নারী মাদক কারবারিদের সক্রিয়তা বাড়ছে। তারা সহজে পুলিশের নজর এড়িয়ে মাদক পরিবহন ও বিক্রির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এজন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নারীদের ওপর বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর আরও বলেন,

> “দুই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জেনেছি, তারা ভৈরবের বিভিন্ন স্থানে গোপনে ইয়াবা বিক্রি করতেন। এর পেছনে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছি।”



পরে পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বাদী হয়ে ভৈরব থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। আটককৃতদের দুপুরেই থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন,

> “আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছ থেকে দুই নারী ও উদ্ধার করা ইয়াবা গ্রহণ করেছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।”



স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজমা ও আশা দীর্ঘদিন ধরে চক্রবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। তারা সাধারণ গৃহিণী পরিচয়ে এলাকায় চলাফেরা করলেও রাতে সক্রিয় থাকতেন মাদক বিক্রিতে। এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ ছিল, তবে প্রমাণের অভাবে কেউ কিছু বলতে সাহস পেত না।

মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয়রা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। আকবরনগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন,

> “আমাদের এলাকায় কিছুদিন ধরে নারী মাদক কারবারিরা সক্রিয় ছিল। পুলিশের এই অভিযান খুবই সময়োপযোগী। আমরা চাই, শুধু এই দুইজন নয়, পুরো চক্রটাকেই আইনের আওতায় আনা হোক।”



ভৈরব উপজেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ কমিটির এক সদস্য জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে চলমান অভিযানের কারণে সম্প্রতি বেশ কিছু বড় মাদক চালান আটক করা গেছে। তিনি বলেন,

> “মাদক শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো সমাজকে ধ্বংস করছে। তাই এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হওয়া জরুরি।”



উল্লেখ্য, ভৈরব-আশুগঞ্জ অঞ্চলটি দেশের অন্যতম মাদক প্রবেশপথ হিসেবে চিহ্নিত। মাদক ব্যবসায়ীরা নদীপথ ও মহাসড়ক ব্যবহার করে সহজে মাদক পাচার করে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়লেও চক্রটি বিভিন্ন কৌশলে সক্রিয় থাকে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ভৈরব ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত অব্যাহত আছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post