ভৈরবে নৌ পুলিশের অভিযানে ভারতীয় ফোসকা ও জিলেট ব্লেড উদ্ধার: আটক ৪ জন, বাল্কহেড জব্দ

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি।।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নৌ পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা পণ্যের মধ্যে ছিল ৬০ বস্তা নিষিদ্ধ ভারতীয় ফোসকা এবং ৬ হাজার ৪ শ' পিচ জিলেট ব্লেড। অভিযানে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি বাল্কহেডও (পণ্যবাহী নৌযান) জব্দ করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাতে ভৈরব নৌ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ থানাধীন মা মনি ইটভাটা সংলগ্ন নদীপথে সন্দেহভাজন একটি বাল্কহেডে হানা দেয় পুলিশ। তল্লাশিতে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফোসকা ও জিলেট ব্লেড, যেগুলো চোরাই পথে ঢোকানো হচ্ছিল দেশে।

📦 উদ্ধারকৃত মালামাল:

৬০ বস্তা ভারতীয় ফোসকা (নিষিদ্ধ পণ্য)

৬,৪০০ পিচ জিলেট ব্লেড


🚔 গ্রেফতারকৃতরা:

দিদার মানিক মিয়ার ছেলে আসিফ (লুন্দিয়া খলাপাড়া, আগানগর ইউনিয়ন)

রমজান আলীর ছেলে ইসমাইল

আব্দুল হামিদের ছেলে রানা

আরও এক যুবক যার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে নিরাপত্তাজনিত কারণে


পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা ভারত থেকে অবৈধভাবে পণ্য সংগ্রহ করে ভৈরব, আশুগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় পাচার করত। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, দীর্ঘ এক বছর ধরে একটি প্রভাবশালী স্থানীয় চক্রের সহায়তায় এ অবৈধ পণ্য বাণিজ্য চলছে। ভারতীয় সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জের তাহিরপুর এলাকা থেকে ফোসকা ও ব্লেড সংগ্রহ করে নদীপথে পাচার করা হতো।

এসআই সফিকুল ইসলাম বলেন, "গোপন সংবাদ পাওয়ার পর রাতের আঁধারে আমরা অভিযান চালাই। তল্লাশিতে ৬০ বস্তা ফোসকা এবং হাজার হাজার পিস জিলেট ব্লেড পাওয়া যায়। এগুলো অবৈধ পথে ভারত থেকে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছিল। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে কাজে লাগবে।"

🔍 নৌ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত নদীপথে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় ভৈরব নৌ থানা পুলিশ বাদী হয়ে আশুগঞ্জ থানায় চোরাচালান আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। চোরাই পণ্য উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারের পর জব্দ বাল্কহেডসহ আসামিদের হস্তান্তর করা হয় আশুগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে।

চোরাচালানের সঙ্গে একটি সশক্ত মহলের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়েছেন আটক ব্যক্তিরা। তাদের দাবি, পণ্য পাচারের জন্য ভৈরবের একটি চালু চক্র নিয়মিত অর্থায়ন ও সহায়তা করে আসছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে নদীপথে অবৈধ পণ্য পাচার করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় পদক্ষেপে এবার হাতেনাতে ধরা পড়ে।

🔎 অবৈধভাবে দেশে ফোসকা ও ব্লেড পাচার গুরুতর অপরাধ। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের ওপরও ঝুঁকি তৈরি হয়। বাজারে অবৈধ ফোসকা ব্যবহার ত্বকের ক্ষতি ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় বলে জানান ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞরা।

বাল্কহেড জব্দের বিষয়ে পুলিশ বলেছে, "চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত এই নৌযানটি এখন পুলিশের হেফাজতে আছে, যা আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।"

ভৈরবে এ ধরনের চোরাচালান বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা মনে করছেন, শুধুমাত্র পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার করলেই হবে না—চর ও নদীপথ এলাকায় রাত্রিকালীন নজরদারি আরও শক্তিশালী করতে হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post