ভৈরবে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ মামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি।।

ভৈরবকে জেলা ঘোষণার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে স্থানীয় ছাত্র ও যুবসমাজ। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দূর্জয় মোড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মশাল হাতে বিক্ষুব্ধ তরুণরা “ভৈরব চাই জেলা”, “মামলার প্রতিবাদে রুখে দাঁড়াও” ইত্যাদি স্লোগান দিতে দিতে মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করেন। গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি কমলপুর নিউটাউন হয়ে আবার দূর্জয় চত্বরে এসে শেষ হয়।

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্র সমাজের প্রতিনিধিরা—নজরুল ইসলাম রাতুল, রিয়াজ উদ্দিন জিহাদ, মিরাজুল ইসলাম মুবিন, মাহবুবুল আলম দিপু, অন্তর মিয়া, তৈহিদুল ইসলাম জিহাদ ও তুহিন মিয়া প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ভৈরববাসীর ন্যায্য দাবিকে দমন করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ট্রেন ভাঙচুরের মামলা দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, “সত্য ঘটনাটি বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে। স্টেশন মাস্টার ও রেলওয়ে পুলিশের নির্দেশে ট্রেন হুইসেল বাজিয়ে চালু করার চেষ্টা করলে কিছু দুষ্কৃতকারী পরিস্থিতি ঘোলা করে পাথর ছুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।”

তারা আরও বলেন, জেলার দাবিতে আন্দোলন এখন জনতার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। কোনো প্রকার ভয়ভীতি, মামলা বা গ্রেফতারে এই দাবি থেকে ভৈরবের মানুষ পিছিয়ে যাবে না। বক্তারা মামলাটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং বলেন, “ভৈরববাসীর এই ন্যায্য আন্দোলন আইনি ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না।”

মশাল মিছিল চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে থানা পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মোতায়েন ছিলেন ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক এবং ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী।

উল্লেখ্য, সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে জেলা ঘোষণার দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে স্থানীয় জনতা। ওই সময় আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়। পরে ট্রেনটি হুইসেল দিয়ে ছাড়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে। এতে ট্রেনের জানালার গ্লাস ও ইঞ্জিনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘটনার পর স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর রাতেই ভৈরব রেলওয়ে ডিবি ও জিআরপি পুলিশের যৌথ অভিযানে তিন কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

জেলার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে ছাত্র ও যুবসমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, “ভৈরববাসী প্রশাসনের ভয় পায় না। আমরা জেলা হবই—এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

Post a Comment

Previous Post Next Post