ভৈরবে উপদেষ্টা আসছেন বলে সড়কের পাশে সায়মানা টানিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো ময়লার ভাগাড়

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ॥
উপদেষ্টা আসবেন—এ খবরেই সাজসজ্জার নামে লুকানো হলো বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ময়লার স্তূপ। কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশন রোডের পাশে বিশাল ময়লার ভাগাড় ঢেকে দেওয়া হয়েছে সায়মানা টানিয়ে। দূর্গন্ধ এড়াতে ছিটানো হয়েছে ব্লিচিং পাউডারও। অথচ, এ রাস্তায় প্রতিদিন যাতায়াত করা সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর এই দুর্গন্ধ সহ্য করেই চলছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে সরকারের তিন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভৈরব হয়ে সরাইলের দিকে রওনা দেন। উপদেষ্টা যাতে রেলস্টেশন সড়কের পাশের ময়লার ভাগাড় না দেখেন, তাই আগে থেকেই ওই অংশে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় কাপড়ের সায়মানা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। বছরের পর বছর ধরে এখানেই ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে মানুষ নাক চেপে হাঁটেন, কিন্তু প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। আজ হঠাৎ এক দিনের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ দেখে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রেলস্টেশন রোডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আজ সকালেই দেখি সড়কের পাশে সায়মানা ঝুলানো হয়েছে, ব্লিচিং ছিটানো হয়েছে। শুনেছি, কোনো উপদেষ্টা আসবেন। অথচ আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে হাঁটি, দুর্গন্ধে বমি চলে আসে। নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করলে এতে ডেঙ্গু মশারও প্রজনন হয়।”

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, “ভৈরব শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত সড়ক এটা। এখানে ময়লার ভাগাড় থাকাটা লজ্জার বিষয়। একদিনের জন্য সাজালেই হবে না, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।”

চিকিৎসকেরা বলছেন, ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় থেকেই ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ নানা সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। দেশে যখন ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তখনও স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলা উদ্বেগজনক।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ওই স্থানে কোনো নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্পট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সড়কের পাশেই ময়লা ফেলা হয়। পরে পৌর কর্মীরা মাঝে মধ্যে তা পরিষ্কার করেন। কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি।

পৌরসভার কনজারভেশন ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম রোকন বলেন, “আমরা নিয়মিত ময়লা সরানোর চেষ্টা করি। আজ উপদেষ্টা ভৈরব হয়ে যাওয়ায় বাড়তি পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আসলে ভৈরবে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা নেই, এটাই বড় সমস্যা।”

এদিকে, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ভৈরব রেলস্টেশন পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী বিপিএম। উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক এবং তাঁর একান্ত সচিব (উপসচিব) সাইফুল ইসলাম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপদেষ্টা প্রথমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চলমান উন্নয়ন কাজ পর্যবেক্ষণ করেন। পরে আশুগঞ্জ-সরাইল অংশের সড়ক পরিদর্শন শেষে বিকেল তিনটার দিকে ভৈরব হয়ে ঢাকায় ফেরেন।

স্থানীয়দের দাবি, উপদেষ্টার আগমন উপলক্ষে এক দিনের সাজসজ্জা নয়, বরং স্থায়ীভাবে রেলস্টেশন সড়কের পাশের ময়লার ভাগাড়টি সরিয়ে নেওয়া উচিত। এতে শহরের সৌন্দর্য যেমন বাড়বে, তেমনি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও অনেক কমবে।

একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে সায়মানা টানিয়ে ময়লা লুকানো আসলে দায়সারা কাজ। সমস্যা ঢেকে রাখা নয়, সমাধান করতে হবে।”

জনসাধারণের প্রত্যাশা—ভৈরব পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন যেন শুধু ভিআইপি আগমনের দিন নয়, প্রতিদিনই পরিচ্ছন্ন ভৈরব গড়তে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post