ভৈরবে মেঘনা ও কালী নদীতে অভিযান: ৩ হাজার মিটার কারেন্ট ও দুয়ারী জাল জব্দ

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব ॥

দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং নিষিদ্ধ মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখতে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা ও কালী নদীতে পরিচালিত হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিশেষ অভিযান। উপজেলা মৎস্য বিভাগ আয়োজিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা চলা এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয় বণিক। অভিযানে অংশ নেন ভৈরব নৌ থানা পুলিশের সদস্যরা ও উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা।

অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থানে নদীর পাড় ও মাঝনদী থেকে প্রায় ৩ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দ করা এসব অবৈধ জাল মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

মৎস্য কর্মকর্তা জয় বণিক বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৪ অক্টোবর থেকে সারাদেশে ইলিশ আহরণ, বিক্রি, পরিবহন ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সময় ইলিশের প্রধান প্রজননকাল হওয়ায়, মা ইলিশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে এখনো গোপনে ইলিশ ধরছে। তাদের আইনের আওতায় আনতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে মাঠে প্রতিনিয়ত নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বয়ে প্রতিদিনই অভিযান পরিচালিত হবে। ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মৎস্য কর্মকর্তার মতে, প্রতিবছর নিষিদ্ধ মৌসুমে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখার ফলে নদীতে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভৈরব উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, এ বছরও দেশের অন্যান্য এলাকার মতো ভৈরবেও ২২ দিনব্যাপী ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় ইলিশ ধরলে, পরিবহন করলে বা বিক্রির চেষ্টা করলেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জাল দীর্ঘদিন ধরে নদীর জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব জালে ক্ষুদ্র মাছ ও পোনা সহজেই আটকা পড়ে নিধন হয়, ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। তাই এ ধরনের জাল নির্মাণ, বিক্রি বা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এ বিষয়ে স্থানীয় এক জেলে জানান, “আমরা জানি এই সময় ইলিশ ধরা বন্ধ। তবু কেউ কেউ গোপনে জাল ফেলছে। প্রশাসন অভিযান চালালে এই চুরি কমে যাবে।”

ভৈরব উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মেঘনা ও কালী নদীতে নিয়মিত অভিযান চলবে এবং অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার মা ইলিশ সংরক্ষণে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করবে।

এমন ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে নদী আবারও ফিরবে তার হারানো জীবনীশক্তি—এমনটাই আশা সচেতন মহলের।

Post a Comment

Previous Post Next Post