ভৈরবে পৃথক অভিযানে ৫ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ইয়াবা–গাঁজা–স্কার্ফ সিরাপ উদ্ধার

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব ॥

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পাঁচ মাদক কারবারিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ভৈরব শাখা। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, স্কার্ফ সিরাপ ও গাঁজাসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিএনসি ভৈরব কার্যালয়ের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু এলাকা, পঞ্চবটী, বউ বাজারসহ একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পাঁচজন নারী ও পুরুষ মাদক কারবারিকে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হয়।

অভিযানে মোট ১,৯৯০ পিস ইয়াবা, ৩৭ বোতল স্কার্ফ সিরাপ এবং ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন—পঞ্চবটী বউ বাজার এলাকার মিলন মিয়ার স্ত্রী রেখা বেগম (৩৭), পঞ্চবটী এলাকার রমজান মিয়ার স্ত্রী স্বপ্না বেগম (২৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধর্মনগর গ্রামের মৃত ধন মিয়ার স্ত্রী শামসুন্নাহার (৫০), বিজয়নগর উপজেলার রইশপুর গ্রামের খোকন মিয়ার স্ত্রী নেহারা বেগম (৫৫) এবং হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার উলুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারেক মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম (৩৫)।

পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বলেন, “গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করি। প্রথমে পঞ্চবটী বউ বাজার এলাকার রেখা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১,৯৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করি। পরে পঞ্চবটী এলাকার স্বপ্না বেগমের কাছ থেকে ৩৭ বোতল স্কার্ফ সিরাপ এবং তিনজনের কাছ থেকে ২ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।”

তিনি আরও জানান, আটক রেখা বেগমের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় আগেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। অন্যান্য আসামিরাও বিভিন্ন জেলায় মাদক পাচার চক্রের সদস্য হিসেবে সক্রিয় ছিল।

অভিযানে অংশ নেওয়া ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, ভৈরব শহরসহ আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। যেখানেই মাদক ব্যবসার তথ্য পাওয়া যাবে, সেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বাদী হয়ে ভৈরব থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব শহরে সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ব্যবসার বিস্তার রোধে প্রশাসন ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। নিয়মিত এই অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকার তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

অভিযান শেষে পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বলেন, “ভৈরবকে মাদকমুক্ত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। মাদকের সঙ্গে জড়িত কেউ রেহাই পাবে না। সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, তবেই মাদকমুক্ত ভৈরব গড়ে তোলা সম্ভব।”

Post a Comment

Previous Post Next Post