ভৈরবে ২১১ কেজি গাঁজা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি ॥

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এক শীর্ষ মাদক মামলার আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১৪), সিপিসি-২ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা। ২১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার মামলার এজাহারনামীয় আসামি আশরাফ মিয়া অবশেষে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছেন।

গতকাল সোমবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আশরাফ মিয়া ভৈরব পৌর এলাকার পুকুরপাড় মহল্লার বাসিন্দা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান

র‌্যাবের অধিনায়ক (সিপিসি-২, ভৈরব ক্যাম্প) এক লিখিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন ও পুকুরপাড় এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় র‍্যাব সদস্যরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চালিয়ে ২১১ কেজি গাঁজা মামলার পলাতক আসামি আশরাফ মিয়াকে গ্রেফতার করেন।

তিনি বলেন, “আশরাফ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিল। তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমরা তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

পটভূমি: ২১১ কেজি গাঁজা মামলা

ভৈরব থানার ২১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার মামলাটি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভৈরব শহরের একটি স্থানে গোপন আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করে র‍্যাব সদস্যরা। তখন ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হলেও মূল অভিযুক্ত আশরাফ মিয়া পালিয়ে যান।

এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযানেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশেষে চার মাসের বেশি সময় পর সোমবার রাতে সফল অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাবের অবস্থান: মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে অভিযান অব্যাহত

র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২ ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়ক বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযানে ভৈরবসহ আশপাশের এলাকায় র‌্যাব সর্বদা সক্রিয় রয়েছে। মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। যারা এই অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তারা যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আশরাফ মিয়াকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-২, কিশোরগঞ্জে প্রেরণ করা হবে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশরাফ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির পাশাপাশি মাদক সরবরাহ চক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে গত কয়েক মাসে সে আত্মগোপনে থেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, “র‍্যাব যেভাবে তাকে ধরে ফেলেছে, এতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। এ ধরনের লোকেরা সমাজের জন্য বিষ। প্রশাসন যদি নিয়মিত অভিযান চালায়, তাহলে যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব।”

মাদকবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্ব

সাম্প্রতিক সময়ে ভৈরবসহ কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকের ছড়াছড়ি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সুধী সমাজ। তারা মনে করেন, র‍্যাবের এই ধারাবাহিক অভিযান যুবসমাজকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

একজন শিক্ষক মন্তব্য করেন, “মাদক শুধু ব্যক্তিকে নয়, গোটা পরিবারকে ধ্বংস করে। প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রত্যেক পরিবারকে মাদকবিরোধী প্রচারণায় যুক্ত হতে হবে।”

র‌্যাবের আহ্বান

র‌্যাব সদস্যরা জানিয়েছেন, মাদকবিরোধী এই অভিযান কেবল আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন করে তোলাই এর মূল লক্ষ্য। র‍্যাবের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে— যেকোনো সন্দেহজনক মাদক কার্যক্রমের তথ্য গোপনে র‌্যাবকে জানাতে।

র‌্যাব-১৪ এর এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চাই জনগণ এগিয়ে আসুক। মাদকমুক্ত ভৈরব গড়তে জনসাধারণের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব নয়।”

Post a Comment

Previous Post Next Post