র্যাব–১৪ এর অভিযানে ট্রাক জব্দ, মামলা দায়ের
জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি ॥
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পঞ্চাশ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ভারতীয় জিরাসহ এক চোরাকারবারীকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)–১৪, সিপিসি–২ ভৈরব ক্যাম্প। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাত সাড়ে এগারটার দিকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের নাটালের মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির নাম ইউসুফ আলী, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
কীভাবে ধরা পড়ল জিরা বহনকারী ট্রাক?
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে নাটালের মোড় এলাকায় চেকপোস্ট বসায় র্যাব–১৪ ভৈরব ক্যাম্পের একটি টিম। ওই সময় ঢাকাগামী একটি মালবাহী ট্রাককে থামার সংকেত দিলে ট্রাকচালক ও সহযোগী পালানোর চেষ্টা করেন। র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে কৌশলে চালক ইউসুফ আলীকে আটক করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে ট্রাকটি তল্লাশি করলে দেখা যায়, ওপরের স্তরে কাঠের গুড়া ও ধানের খোসাভর্তি বস্তা রাখা হলেও তার নিচে সযত্নে লুকানো রয়েছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা। আটক ইউসুফ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, দীর্ঘ দিন ধরে সীমান্ত এলাকা থেকে এসব চোরাইপণ্য বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল সে।
বিপুল পরিমাণ জিরা উদ্ধার
র্যাব জানায়, ট্রাকের ভেতর থেকে মোট ২৪০ বস্তা ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়। এসব জিরা চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে র্যাব। উদ্ধার jিনিসপত্রের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
ট্রাক জব্দ, মামলা দায়ের
অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত জিরা ও ট্রাক জব্দ করে এবং আটক ইউসুফ আলীকে ভৈরব থানায় হস্তান্তর করা হয়। র্যাব সদস্য চন্দন গোপাল সুর বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
র্যাব–১৪ ভৈরব ক্যাম্প সূত্র জানায়, সীমান্ত জেলা ও মহাসড়ক ব্যবহার করে একদল চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় মসলা, সুগন্ধি পণ্য ও ভোগ্যপণ্য বাংলাদেশে পাচার করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চোরাচালান বেড়েছে মহাসড়কজুড়ে
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের মতে, মহাসড়ক ব্যবহার করে চোরাচালানের প্রবণতা সম্প্রতি বেড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় মালবাহী ট্রাকের আড়ালে মসলা, সিগারেট, কসমেটিকসসহ নানা অননুমোদিত পণ্য ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরে পাচার করা হয়।
তাদের দাবি—এ ধরনের চোরাচালান বন্ধ না হলে বৈধ বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে এবং সরকারি রাজস্ব ব্যাহত হয়। তাই এ ধরনের নিয়মিত অভিযানের প্রশংসা করেন স্থানীয়রা।
র্যাবের পক্ষ থেকে সতর্কতা
র্যাব–১৪ ভৈরব ক্যাম্পের একজন কর্মকর্তা বলেন,
“চোরাচালান একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ। বেশ কিছু গোষ্ঠী মহাসড়ককে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। আমরা গোপন সংবাদ ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এসব অপরাধীদের শনাক্ত করছি। এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
অপরদিকে ভৈরব থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলা দায়েরের পর আটক ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং ট্রাক ও জব্দকৃত পণ্য আদালতের নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Post a Comment