আধুনিক বাজার অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার
জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি ॥
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে স্থানীয় ব্যবসা ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে ‘বেটার মার্কেট ফর অল’ উদ্যোগের আওতায় সাতটি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শবনম শারমিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় একে একে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন শেষে ইউএনও শবনম শারমিন স্থানীয় ব্যবসায়ী, পৌর কর্মকর্তাসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক, পৌরসভার প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তারা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইউএনও শবনম শারমিন ভৈরব বাজারের আধুনিক সবজি বাজার, মাছ ও মাংস সেড এবং গণশৌচাগার পরিদর্শন করেন। পরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বাজারে পণ্যের দাম তালিকা সঠিকভাবে টানানোর নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি, বাজার ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় পৌর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সমাজকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আধুনিক টয়লেট, পানীয়জলের ব্যবস্থা ও আলোকসজ্জার অভাব ছিল। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুইসকন্ট্যাক্ট এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সহযোগিতায় ‘বেটার মার্কেট ফর অল’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
প্রকল্পের আওতায় শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে —
ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে একটি আধুনিক গণশৌচাগার ও ওয়াটার এটিএম বুথ,
বোধাই সাহা ঘাটে টয়লেট নির্মাণ,
দুধ বাজার এলাকায় আরেকটি গণশৌচাগার,
রানী বাজার এলাকায় আধুনিক সবজি বাজার, মাছ ও মাংস সেড নির্মাণ,
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২৬টি সোলার লাইট স্থাপন,
এবং সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, “ভৈরব শহরের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে বাজারকেন্দ্রিক চাপ। নাগরিক ও ব্যবসায়ী উভয় শ্রেণির সুবিধার জন্য আমরা সুইসকন্ট্যাক্টের সহায়তায় আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তুলছি। এতে একদিকে বাজার হবে পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক, অন্যদিকে পরিবেশও হবে টেকসই।”
ব্যবসায়ী সমাজের নেতারা বলছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভৈরব বাজারে বহুমাত্রিক পরিবর্তন আসবে। আগের মতো অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো বাজার ব্যবস্থার পরিবর্তে এখন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য তৈরি হচ্ছে আরামদায়ক পরিবেশ।
সবজি বিক্রেতা কামাল উদ্দিন বলেন, “আগে বাজারে টয়লেট বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ছিল না। এখন ওয়াটার বুথ ও টয়লেট হওয়ার ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই উপকৃত হচ্ছি। এতে বাজারে মানুষের আনাগোনাও বেড়েছে।”
এছাড়া নারী ক্রেতাদের জন্য গণশৌচাগার নির্মাণ ও সোলার লাইট স্থাপন করায় তাদের নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে বলে জানান রানী বাজারের ব্যবসায়ী সুমি আক্তার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শবনম শারমিন বলেন, “ভৈরবের বাজারগুলোকে আরও উন্নত ও টেকসই করার লক্ষ্যেই এসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি সাধারণ জনগণও পাবেন উন্নত সেবা। ভবিষ্যতে আরও কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতি পায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই বাজারগুলো শুধু বাণিজ্যিক কেন্দ্র না হয়ে সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক। এজন্য নিয়মিত মনিটরিং, দাম তালিকা টানানো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরে আরও কয়েকটি নতুন উদ্যোগ হাতে নেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে শহরের বিভিন্ন স্পটে অতিরিক্ত সোলার লাইট স্থাপন, বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ ড্রেনেজ প্রকল্প।
স্থানীয়রা আশা করছেন, এ ধরনের জনবান্ধব প্রকল্পের মাধ্যমে ভৈরব শহর ধীরে ধীরে একটি “আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বাণিজ্যিক শহরে” পরিণত হবে।
Post a Comment